যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো শহরের মসজিদেগুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মুসল্লি এবং দুইজন কিশোর সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরের কিছু আগে সান ডিয়েগো শহরের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক পুলিশ অভিযান শুরু হয়।

সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজনের মা পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তার ছেলে নিখোঁজ এবং বাড়ি থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও একটি গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ যখন ওই কিশোর ও তার বন্ধুকে খুঁজছিল, তখনই মসজিদ থেকে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে কল আসে।

নিকটস্থ পুলিশ সদস্যরা দ্রুত মসজিদে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ প্রধান আরও জানান, মসজিদের দুই ব্লক দূরে চলন্ত গাড়ি থেকেও গুলির খবর পাওয়া যায়। সেখানে একজন ল্যান্ডস্কেপ কর্মীর হেলমেটে গুলি লাগলেও তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে, নিহত তিনজনের মধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। পুলিশ প্রধান তার বীরত্বের প্রশংসা করে বলেন, ওই নিরাপত্তারক্ষী বিপদ কমাতে সাহায্য করেছেন এবং নিঃসন্দেহে তিনি অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। মসজিদের স্কুলের কোনো শিশু এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘বর্তমানে হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে, শিশুরা নিরাপদ আছে এবং এটি একটি স্বস্তির খবর।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আমার প্রার্থনা রইল।’

পরে অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ‘সান ডিয়েগোতে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। ইসলামবিদ্বেষের কোনো স্থান এখানে নেই। যেকোনো সান ডিয়েগোবাসীর ওপর আক্রমণ মানেই আমাদের সবার ওপর আক্রমণ। আমেরিকার এই শ্রেষ্ঠ শহরে আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না।’

স্থানীয় শার্প মেমোরিয়াল হাসপাতালের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলায় আহত কয়েকজনকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মসজিদের ইমাম এবং পরিচালক তাহা হাসানে বলেন, ‘এটি ইবাদতের ঘর, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। আমাদের জাতির মধ্যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সহনশীলতা ও ভালোবাসার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।’

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এই জঘন্য সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও এই হামলার বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে এবং তিনি একে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সান ডিয়েগোর এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগ নিজ নিজ শহরের বিভিন্ন মসজিদ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।